ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যাপারে পিতামাতার দায়িত্ব

আচ্ছালামু আলাইকুম NEW NCP এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যাপারে পিতামাতার দায়িত্ব এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

 ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যাপারে পিতামাতার দায়িত্ব

ছেলেমেয়ের জৈবিক স্বাস্থ্য রক্ষা ও জৈবিক প্রয়োজন পূরণ তথা সুষ্ঠু লালন-পালনের যেমন দায়িত্ব হছে পিতামাতার, তেমনি তাদের যৌন প্রয়োজন পূরণ করে তাদের নৈতিক স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্বও পিতামাতার। এজন্যে বিয়ের বয়স হলেই তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করা আবশ্যক এবং এ দায়িত্ব প্রধানত তাদের পিতামাতার আর তাদের অবর্তমানে অন্য অভিভাবকের।

নবী করীম (স) বলেছেনঃ

من ولد له ولد فليحسن اسمه واد به فإذا بلغ فليزوجه - فان بلغ والميزوجه قاصاب

اثها فإنما اثمه على ابيه -

بيهقي في شعب الايمان)

ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যাপারে পিতামাতার দায়িত্ব


যার কোন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে, তার উচিত তার জন্যে ভাল নাম রাখা এবং তাকে ভাল আদব-কায়দা শিক্ষা দেয়া। আর যখন সে বালেগ—পূর্ণ বয়স্ক ও বিয়ের যোগ্য হবে, তখন তাকে বিয়ে দেয়া কর্তব্য। কেননা বালেগ হওয়ার পরও যদি তার বিয়ের ব্যবস্থা করা না হয়, আর এ কারণে সে কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তার গুনাহ তার পিতার উপর বর্তাবে

এ হাদীসে প্রথমত ছেলেমেয়ের ভাল নাম রাখা ও তাকে ভাল আদব-কায়দা শেখানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছ। তার পরই বলা হয়েছে যে, ছেলে সন্তান – ছেলে বা মেয়ে—বালেগ হলে অনতিবিলম্বে যদি তার 
বিয়ের ব্যবস্থা না করা হয়, তার বিয়ের ব্যাপারে যদি পিতামাতা- অতবা তার অভিভাবক কোনরূপ অবহেলা ও উপেক্ষা প্রদর্শন করার  ফলে তার বিয়ে বিলম্বিত হয়েছে এমন অবস্তায়  যদি তার দ্বারা কোন রোপ গুনাহের কাজ সংঘটিত হয়, তাহলে সে গুনাহের দায়িত্ব থেকে পিতামাতা বা অভিভাবক কিছুতেই রেহাই পেতে পারে না। মওলানা ইদরীস কান্ধেলুভী এ হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন :

ای جزاء اثمه عليه القصيره -

অর্থাৎ তার গুনাহের শাস্তি তার পিতাকে ভোগ করতে হবে। কারণ এই ব্যাপারটি তারই  অবহেলার কারনে হতে পেরেছে।

অতঃপর লিখেছেন :

التعليق الصبيح ج ص ٢٠)

وهو محمول على الزجز والتهديد للمبالغة والتاكيد .

এ হাদীস থেকে ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যাপারে অবহেলা করার জন্যে পিতার প্রতি অতিরিক্ত শাসন, ধমক ও কঠোর বাণী জানা যায় এবং এ সম্পর্কে যথেষ্ট তাকীদ রয়েছে বলেও বোঝা যায় । হযরত উমর ও আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত অপর আরো একটি হাদীস থেকে জানাতে পাওয়া যায়, নবী করীম (স) বলেছেনঃ

في الثورة مكتوب من بلغت ابنته اثنتى عشرة سنة ولم يزوجها فاصابت إِثْمًا فَاتُهـ (بيهقي في شعب الايمان)

ذلك عليه

তওরাত কিতাবে লিখিত রয়েছে, যার কন্যা বারো বছর বয়সে পৌঁছেছে আর তখনো যদি তার বিয়ের ব্যবস্থা না করে, এর ফলে যদি সে কোন গুনাহ করে বসে তবে এ গুনাহ তার পিতার উপর বর্তাবে।

এ দুটো হাদীস থেকেই প্রমাণিত হয় যে, সন্তান বালেগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা পিতামাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর সেই সঙ্গে বয়স্ক ছেলেমেয়েরও কর্তব্য হচ্ছে এজন্যে নিজেকে সর্বতোভাবে প্রস্তুত করা।

এ পর্যায়ে হাদীসে আরো কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে। অপর এক হাদীসে রাসূলে করীম (স) পিতামাতাকে সম্বোধন করে বলেছেনঃ

إذا خطب اليكم من ترضون دينه وخلقه فزوجوه - ان لا تفعلوه تكن فتنة في الارض

و فساد عريض -

ترمذی

তোমাদের নিকট যদি এমন কোন বর বা কনের বিয়ের প্রস্তাব আসে, যার দ্বীনদারী ও চরিত্রকে তোমরা পছন্দ কর, তাহলে তাঁর সাথে বিয়ে সম্পন্ন কর । যদি তা না কর, তাহলে জমিনে বড় বিপদ দেখা দেবে এবং সুদূরপ্রসারী বিপর্যয়ের সৃষ্টি হবে ।

অর্থাৎ বিয়ের ব্যাপারে বর বা কনের শুধু দ্বীনদারী ও চরিত্রই প্রধানত ও প্রথমত লক্ষণীয় জিনিস । এ দিক দিয়ে বর বা কনেকে পছন্দ হলে ও যোগ্য বিবেচিত হলে অন্য কোন দিকে বড় বেশী দৃষ্টিপাত না করে তার সাথে বিয়ে সম্পন্ন করা কর্তব্য। রাসূলে করীম (স) বলেছেনঃ এসব দিক দিয়ে যোগ্য বর বা কনে পাওয়া সত্ত্বেও যদি তোমরা তার বিয়ের ব্যবস্থা না কর-তার সাথে বিয়ে সম্পন্ন করতে রাযী না হও, তাহলে তার পরিণাম অত্যন্ত খারাপ হবে। আর সে খারাপ পরিণামের রূপ হচ্ছে ভয়ানক বিপদ ও ব্যাপক বিপর্যয় । এর ব্যাখ্যা করে মওলানা ইদ্রীস কান্ধেলুভী লিখেছেনঃ

اِن لَم تُزوجو مَن تَرْضَوْنَ دِينَهُ بَلْ نَظَرْتُمْ إِلَى صَاحِبِ مَالِ وَ جَاهِ كَمَا هُوَ شَيْمَةُ أَبْنَاءِ

الدنيا يبقى

اكثر النِّسَاء بلازوج والرِّجَالُ بِلا زوجة فيكثر الزنى وتقع الفتنة .

التعليق الصبيح ج ۲ ص ۶)

যার দ্বীনদারী তোমরা পছন্দ কর, সে ছেলের বা মেয়ের সাথে যদি তোমরা বিয়ে সম্পন্ন না কর বরং তোমাদের দৃষ্টি উদ্গ্রীব হয়ে থাকে ধন-মাল ও সম্মান সম্ভ্রম সম্পন্ন কোন বর বা কনের সন্ধানে যেমন দুনিয়াদার লোকেরা করে থাকে-তাহলে বহুসংখ্যক মেয়ে স্বামীহীনা এবং বহু সংখ্যক পুরুষ স্ত্রীহীনা অবিবাহিত হয়ে থাকতে বাধ্য হবে। আর এরই ফলে জ্বেনা-ব্যভিচার ব্যাপক হয়ে দেখা দেবে এবং সমাজে দেখা দেবে নানারূপ ফিতনা-ফাসাদ ও বিপদ-বিপর্যয়।

বিয়ের বয়স

প্রশ্ন : ছেলে বা মেয়ের বিয়ের জন্যে কোন বয়স- নির্দিষ্ট আছে কি ? কত বয়স হলে পরে ছেলেমেয়েকে বিয়ে দেয়া যেতে পারে, আর কত বয়স পূর্ণ না হলে বিয়ে দেয়া উচিত হতে পারে না আধুনিক যুগের সমাজ-মানসে এ এক জরুরী জিজ্ঞাসা।

 অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছেলে ও মেয়ের বিয়ের জন্যে একটা বয়স পরিমাণ আইনের সাহায্যে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় এবং বলা হয় যে, বয়স না হলে ছেলে বা মেয়ের বিয়ে দেয়া চলবে না, এ সম্পর্কে ইসলামের অভিমত কি?.....

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। ছেলেমেয়ের বিয়ের ব্যাপারে পিতামাতার দায়িত্ব এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
🟢 কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url