খেজুরের উপকারিতা ও গুনাগুন
আচ্ছালামু আলাইকুম NEW NCP এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে খেজুরের উপকারিতা ও গুনাগুন এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
খেজুরের গুনাগুন
খেজুর একটা অসাধারণ ফল যাতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, যা হারে স্বাস্থ্য ভালো রাখে ।
খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম,ক্যালসিয়াম,ফসফরাস, ভিটামিন, আঁশ, গনেশিয়াম ও জিঙ্ক।
এবং আয়রন আর ফলিক এসিড আছে,ফাইবার আছে যা আমাদের শরীরে রক্ত তরিতে সাহায্য করে।
আমরা জানি আমাদের শরীরে আয়রনের প্রয়োজন পড়ে তাই একজন সুস্থ মানুষের শরীরে যতটুকু আয়রনের প্রয়োজন, তার প্রায় ১2 ভাগই পূরণ করে দেয় খেজুর।
তাই প্রতিদিন অল্প হলেও খেজুর খাওয়া উচিত।
মোট কথা খেজুরের পুষ্টিগুণ অসাধারণ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর কে খুব ভালোবাসতেন।তবে সকালবেলাতেই কয়েকটা খেজুর খেয়ে নিলে শরীর স্বাস্থ্য দুটারেই উপকার হবে।
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরের প্রয়োজনীয় আয়রনের অনেকটাই খেজুর থেকে পাওয়া যায়। এ ছাড়া যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের কে প্রচলিত খেজুরের বদলে শুকনো খেজুরকে ডায়েটে রাখতে বলেন বিশেষজ্ঞরা।
খেজুরে পুষ্টি উপাদান
সুস্বাদু আর বেশ পরিচিত একটি ফল,যার নাম খেজুর, যা ফ্রুকটোজ ও গ্লাইসেমিক সমৃদ্ধ। এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ কে বাড়িয়ে দেয়। খেজুর ফলকে চিনির বিকল্প হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। খেজুরের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে বলা হয় চারটি বা ৩০ গ্রাম পরিমাণ খেজুরে আছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার এবং আরও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। আমাদের শরীরে শক্তির একটি ভালো উৎস হল খেজুর। তাই খেজুর খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের ক্লান্তিভাব দূর হয়। খেজুরে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি, যা ভিটামিন বিসিক্স মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
খেজুরের উপকারিতা
আমরা খেজুরের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনেছি এখন জানবো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সালাম খেজুর সম্পর্কে কি বলেছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম একাধিক বর্ণনায় খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন
হযরত আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাম বলেন মদিনার উচ্চভূমিতে উৎপন্ন আজও খেজুরের মধ্যে রোগের নিরাময় রয়েছে আর প্রথম বুড়ে তা আহার করা বিশেষ প্রতিষেধক হাদিস নং (মুসলিম: ৫১৬৮; সিলসিলাতুস সহিহাহ: ৩৫৩৯)
অন্য আরেকটি হাদিসে আছে হযরত সাদ রাঃ বলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু…. সালামকে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি প্রতিদিন ভোরে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবেন সেদিন কোন বিষ ও জাদু টোনা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। হাদিসটি এসেছে (মুসলিম: ৫১৬৮; সিলসিলাতুস সহিহাহ: ৩৫৩৯)
আরেকটি হাদিসে এসেছে হযরত সাদ (রা.)হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন আমি একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন রাসূলুল্লাহ (স.) সাল্লাম আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তার হাত আমার বুকের ওপর রাখেন আমি তার শীতলতা আমার হৃদয় দিয়ে অনুভব করি এরপর তিনি বলেন তুমি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছো। কাজেই তুমি সাকিব গোত্রের অধিবাসী হারিশা ইবনে খালদার এর কাছে যাও কেননা সে একজন চিকিৎসক। আর সে যেন আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচি সহ চূর্ণ করে তোমার জন্য সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়।অত্র হাদিসটি এসেছে (আবু দাউদ: ৩৮৩৫
অন্য আরেকটি কিতাবে এসেছে (আহমদ, তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও দারেমি; আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৬২, পৃষ্ঠা: ১৩১-১৩২)সালমান ইবনে আমির (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন—‘তোমাদের কেউ রোজা রাখলে খেজুর দিয়ে যেন ইফতার করে, খেজুর না হলে পানি দিয়ে; নিশ্চয় পানি পবিত্র‘।
আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ঈমানদার ব্যক্তির জন্য খেজুর দিয়ে সেহরি খাওয়া উত্তম! (আবু দাউদ:হাদিস নং হাদিস নং ২৩৪৫)
অন্যদিকে বিভিন্ন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে …
খেজুর হৃদরোগ, জ্বর ও পেটের পীড়ায় উপকারী এবং বলবর্ধক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। রোজাদারের ক্ষুধামন্দা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে খেজুর বিশেষ উপকারী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, খেজুর খেলে আরও বেশ কিছু উপকার রয়েছে। যেমন-
খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে বিধায় ক্লান্তির শেষে খেজুর খাওয়া হলে দ্রুত দুর্বলতা কেটে যায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। খেজুরের উপকারিতা ও গুনাগুন এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।
comment url