গর্ভকালীন মায়ের স্বাস্থ্য পরিচর্যা
আচ্ছালামু আলাইকুম NEW NCP এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে গর্ভকালীন মায়ের স্বাস্থ্য পরিচর্যা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
গর্ভকালীন মায়ের স্বাস্থ্য পরিচর্যা।
যত্নের ও সাবধানতা অজানা ভয়, অনেক সংশয় আরো অনেক কিছু । মা হওয়া একজন নারীর জন্য জীবনের সবচেয়ে সুন্দরতম মুহূর্ত। এ সময় মা অনেক স্বপ্নের জাল বোনেন, গর্ভস্থ সন্তানটি দেখতে কেমন হবে, হাসিটা কার পাবে? গায়ের রং কেমন হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক কিছু। সত্যি তো একটি সুন্দর, সুস্থ, সবল শিশু ও সুস্থ মা আমাদের সবারই কাম্য। অথচ পরিসংখ্যান দেয় দুঃখজনক তথ্য। বিশ্বে প্রতিবছর ৬ লাখ মেয়ে প্রাণ দেয় মা হতে গিয়ে।
গর্ভাবস্থার কারণে যেসব মা মারা যান তার প্রায় ৯
৮-৯৯ শতাংশই উন্নয়নশীল দেশগুলোর। আর বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। পৃথিবীতে যে সংখ্যায় মা মারা যান তার ১৫ গুণ অর্থাৎ, ৯০ লাখ মা প্রতি বছর প্রেগনেন্সি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কোনো না কোনো রোগগ্রস্ততায় ভোগেন। আর কিছু ক্ষেত্রে যার ভার বহন করতে থাকেন সারা জীবন ধরে। তাই শারীরিক এই স্থায়ী অসুস্থতার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন অনেক মহিলা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, সন্তান সম্ভাবনার যে যে কারণে মায়ের মৃত্যু হয় তার ৮০ ভাগ প্রতিরোধযোগ্য। এ সময়ে মায়ের মৃত্যুর অন্যতম কারণগুলো হলো : সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ, রক্তস্বত্মতা, উচ্চ রক্তচাপ, অপারেশন জটিলতা ও জন্ডিস । বলাবাহুল্য এছাড়া আমাদের দেশে অনেক পরোক্ষ কারণও মায়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী। আর্থ- সামাজিক অবস্থা, দারিদ্র্য, নিরক্ষতা, কুশিক্ষা, নিম্নমানের বাসস্থান, পরিবহন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা। এসব চমকে দেওয়া তথ্যগুলো অনেক হবু মাকেই আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলতে পারে ।
১.সঠিক বয়সে মা হোন। বেশি বয়সে মা হতে গেলে গর্ভাবস্থায় মা নানা রকম ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন। মায়ের বয়স যত বাড়ে, অস্বাভাবিক শিশুর জন্ম হারও তত বাড়ে।
২. প্রত্যেক হবু মায়ের জানা উচিত, গর্ভাবস্থা কোনো শারীরিক অসুস্থতা নয়।এটি একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরিক অবস্থা।
৩. গর্ভ সঞ্চারণের আগে প্রত্যেক মাকে গর্ভধারণের জন্য সম্পূর্ণ মানসিক প্রস্তুতি
নিতে হবে ।
৪. স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিয়ে সন্তান ধারণের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।
৫. প্রি-কন্সেপ্শাল্ কাউন্সেলিংয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সুস্থ মায়ের কোলে সুস্থ শিশু তুলে দেওয়া ।
৬.সন্তান গর্ভে আসার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তার নির্দেশ মতো চলতে হবে।
৭. সন্তান গর্ভে আসার প্রথমদিকে বমি বমি ভাব, সকালে খালি পেটে বমি, বুক জ্বালাপোড়া করা, অনেকের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য, শ্বাসকষ্ট, শিরদাঁড়ায় ব্যথা, নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়, যা গর্ভবস্থার নানা পর্যায়ে মায়েদের চিন্তিত করে তোলে । এ সময় চিন্তামুক্ত থাকুন ।
৮. পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে বিশেষ যত্নবান হোন ।
শুধু তাই নয়, গর্ভাবস্থায় উপযোগী এমন পোশাক-পরিচ্ছদ ও জুতো
পরুন।
৯. গর্ভাবস্থায় ডেন্জার্ সিগ্নাল (বিপদজনক সংকেত) সম্পর্কে আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন ।
গর্ভবতী মহিলার রক্তশূন্যতার কারন :
১. শারীরবৃত্তীয় কারণ : শরীরে রক্তের আয়তন গর্ভধারণকালে শতকরা ১৫থেকে ২০ ভাগ বাড়ালেও রক্ত রস বা প্লাজমা বেড়ে যায় শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ। ফলে রক্তে কোষ তুলনামূলকভাবে কমে যায় এবং ঘনত্ব কমজনিত রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
২.মায়ের সমস্যা : ক্ষুধামন্দা ভাব, বমি বমি ভাব, কুসংস্কার (বেশি খেলে বাচ্চা বড় হবে, বড় হলে প্রসব যন্ত্রণা বেড়ে যাবে), স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এসব কারণে আমাদের দেশের মায়েরা কম খেতেই অভ্যস্ত। ফলে রক্ত স্বত্মতার কারণে মায়েরা দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। ৩. অন্যান্য সমস্যা :
মা খেলেও সন্তানের পুষ্টি জোগাতে তা পর্যাপ্ত নয়।মায়ের হজমজনিত সমস্যা। যেমন :
সিলিয়াক ডিজিস, অস্ত্রে টিবি রোগ, ডিসেন্সি, কৃমি রোগ, ডায়রিয়া, খাদ্যে লৌহের ঘাটতি, গর্ভধারণকালে, প্রসবকালে অথবা প্রসবোত্তর তীব্র রক্তক্ষণ। এসব কারণেও শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতা।
এ ধরনের মায়েদের শরীর খুব দুর্বল থাকে, মাঝে মাঝে মূর্ছা যায়, তাদের চেহারায় এক ধরনের ফ্যাকাশে ভাব থাকে। জিজ্ঞাসা করলে তারা অনেক সময় বুক ধড়পড়ানির কথা বলবে।
কী কী পরীক্ষা করাবেন :
রক্তের রক্তের ফিল্ম, পায়খানার রুটিন পরীক্ষা। প্রয়োজনে ইকো কার্ডিওগ্রাম করাতে হবে।
রক্তশূন্য মায়ের অসুবিধাসমূহ
রক্তশূন্য মায়ের অনেক অসুবিধা ঘটে। যেমন : ১. নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রসব বেদনা হওয়া, ২. গর্ভপাতের সম্ভাবনা, ৩. রক্ত শূন্যতাজনিত হৃদরোগ, ৪. বিভিন্ন জীবাণুজনিত রোগের শিকার, ৫. প্রসবের পর রক্তক্ষরণ বেড়ে যাওয়া, ৬. প্রসবের পর অসুস্থতা বেড়ে যাওয়া।
আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। গর্ভকালীন মায়ের স্বাস্থ্য পরিচর্যা এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।
.png)
দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।
comment url