ইনসুলিন কখন নিতে হয় এবং কেন নিবেন

আচ্ছালামু আলাইকুম NEW NCP এর পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। আজকে আমি আপনাদের মাঝে ইনসুলিন কখন নিতে হয় এবং কেন নিবেন এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

 ইনসুলিন কখন নিতে হয় এবং কেন নিবেন ? 

আসলে ইনসুলিন সম্পর্কে আমাদের সকলেরই একটা ভয় আছে, যখনই ডাক্তাররা আমাদেরকে ইনসুলিন নেওয়ার কথা বলে তখন আমরা অনেকে ভয় পেয়ে থাকি।  আমাদের ধারণা থাকে যে একবার ইনসুলিন নিলে সারা জীবন নিতে হবে। প্রথমে আমাদের জানতে হবে ইনসুলিন ডাক্তাররা কেন দেয় নিশ্চয়ই রোগীর জন্য   ইনসুলিন প্রয়োজন তাই ডাক্তাররা দেয়, অর্থাৎ একটা মানুষের রক্তে যদি অনেক পরিমাণ সুগার থাকে । অর্থাৎ আমার বডিতে যে ইনসুলিন  কাজ করতে পারছে না তার মানে কি আমি যদি বাইরে থেকে ইনসুলিন না  দেই, আমার যে বডি ফ্যাক্টরি আছে তাকে যদি আমি ওষুধ দিয়ে ওই মুহূর্তের জন্য বিরক্ত করি তাহলে কিন্তু সে পার্মানেন্টলি ফেইলর হয়ে যাবে। 

ইনসুলিন কখন নিতে হয় এবং কেন নিবেন

আর একটা বিষয় আমাদেরকে বুঝতে হবে তাহলে আমার বডিতে যদি ইনসুলিন থাকতো  তাহলে বাইরে থেকে ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বিষয়টা হলো আমাদের বডিতে যখন আস্তে আস্তে ইনসুলিন কমে যায় তখনই বাইরে ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে সারা জীবনের জন্য। 

আরেকটি বিষয় যারা টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস রোগী তাদের সারাজীবন ইনসুলিন নিতে হয়। 

কারণ তাদের বডি ফ্যাক্টরিতে ইনসুলিন তৈরি হয় না,

 ঠিক তেমনি টাইপ টু ডায়াবেটিস মানুষরা একসময় এরকম হয়ে যায় তখন তাদের ইনসুলিন লাগে। 

আর একটা বিষয় হচ্ছে যখন কোন মানুষ একটা সার্জারিতে যাবে, কিংবা তার স্ট্রোক হয়েছে, কিংবা তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, কিংবা কোন একটা গা শুকাচ্ছে না,একটা খারাপ অবস্থায় আছে ক্রিটিকাল কোন ইনফেকশন তখন কিন্তু আমরা ইনসুলিন ব্যবহার করে থাকি। এবং কিডনি বা লিভারের অবস্থা যদি খারাপ হোক না কেন তখন আমরা কিন্তু নিশ্চিন্তে একটু ওষুধ ব্যবহার করতে পারি সেটা হলইনসুলিন।

ইনসুলিন এর ডোজ কিভাবে নিব নিয়ম গুলো জেনে নেই। 

 অনেকেই এ ব্যাপারে ভুল ধারণা পোষণ করেন, কিভাবে আমি এডজাস্ট করব এটা কিন্তু জানা থাকতে হবে,ডাক্তাররা যখন ইনসুলিন দেওয়ার জন্য শুরু করেন তখন একটি ডোজ একবারে দেয় না যেটা আপনার লাগবে। ডাক্তাররা প্রথমে আপনার জন্য অল্প ডোজ ইনসুলিনটা শুরু করেন তারপরে আস্তে আস্তে ডোজটা বিটআপ করতে হয়। এবং আপনার জন্য আপনার ডাক্তার একটা নির্দিষ্ট টার্গেট তৈরি করে দিবে যে আপনার আসলে খাওয়ার আগে কত থাকতে হবে এবং খাওয়ার পরে কত থাকতে হবে।

 অর্থাৎ সব মানুষের জন্য কিন্তু টার্গেট এক নয় সে
ই অনুযায়ী ইনসুলিনের মাত্রা কম বেশি করতে হবে । যেমন আপনার জন্য ডাক্তাররা নির্দিষ্ট করে দিল যে আপনার জন্য খালি পেটে 5/6 রাখতে হবে। খাওয়ার পরে ৮ রাখতে হবে। এখন দেখা গেল আপনার যে ইনসুলিন  ডোজ টি ডাক্তার সাহেব দিয়েছেন সেটা হয়তো এখনো 6 এ আসেনি 6এর ওপরে আছে তাহলে আপনি একটু করে দুই ইউনিট ইনসুলিন বাড়িয়ে দিতে পারেন। 

অথবা দেখা গেল আপনার রক্তের সুগার  ৮এর ওপরে আছে  তাহলে আপনি ৪ ইউনিট বাড়িয়ে দিতে পারেন। ঠিক তেমনি আপনার ডাক্তার সাহেব যদি দেখে আপনার রক্তের সুগারের মাত্রা দশের ওপরে আছে তাহলে কিন্তু 6  ইউনিট ও বাড়িয়ে দিতে পারেন। 

 আপনার ডাক্তার আপনাকে শিখিয়ে দিবেন যে এইভাবে করে আপনার ডোজটি  বাড়াবেন । এবং বাড়াতে বাড়াতে এক পর্যায়ে যখন আমি আমার টার্গেট এ পৌঁছে যাব তার মানে আমাকে ওই অবস্থায় ইনসুলিন ডোজটি কন্টিনিউ করতে হবে।

 কোন কারনে যদি দেখি আমার রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেছে অর্থাৎ 4 বা তার নিচে নেমে এসেছে।  এবং আমি যদি মনে করি আমার খাওয়া দাওয়ার কারণে নয় এটা ইনসুলিনের কারণে হয়েছে তাহলে ডোজটি আবার কমিয়ে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে অনেকেই রাতে ইনসুলিন ডোজটি নিচ্ছেন এবং   ভোরের দিকে তার সুগার কমে যাচ্ছে তাহলে রাতের  ডোজ টি কমিয়ে দিতে হবে। কারো কারো ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় সকাল বেলায় সে ঠিক আছে কিন্তু দুপুরে খাবারের আগে তার সুগারটি কমে যাচ্ছে সে ক্ষেত্রে সকালের ইনসুলিন টি একটু কমিয়ে দিতে হবে। ঠিক এইভাবে করে আমাদেরকে মোটামুটি ইনসুলিন এর ডোজ  এডজাস্টমেন্টে আনার চেষ্টা করতে হবে। 

অনেকে আবার ইনসুলিন দিয়ে বসে থাকেন এটা কখনো করবেন না। অনেকে আবার ইনসুলিন দেওয়ার পর বলেন যে আমি একটু এক্সারসাইজ করে আসি একটু কাজ করে আসি এটি কখনো করবেন না। 

আপনার কাজ ইনসুলিন দিয়ে শুধু অপেক্ষা করা কখন খাবার খাবেন। 

আমারও মূলত দুই ধরনের ইনসুলিন ব্যবহার করে তাকে। একটি হলো খাবারের আধাঘন্টা আগে দিতে হয়। আরেকটি হলো ইনসুলিন দেওয়ার 5/10 মিনিট এর মধ্যে খাবার খাওয়া যায়। সেটাও আপনারা ডাক্তার সাহেব বলে দিবে  আপনি কোন ধরনের   ইন্সুলিনে আপনি আছেন। সে অনুযায়ী আপনি এটা ব্যবহার করবেন এবং দয়া করে ইনসুলিন দিয়ে আপনি কোথাও চলে যাবেন না কিংবা ইনসুলিন দিয়ে কোন এক্সারসাইজ করতে যাবেন না তাহলে কিন্তু আপনার রক্তের সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যাবে। 

ইনসুলিন কে যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে এর চেয়ে ভালো মেডিসিন আর নেই ।  

আপনার আসলেই দৈনিক শিক্ষা ব্লগর একজন মূল্যবান পাঠক। ইনসুলিন কখন নিতে হয় এবং কেন নিবেন এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ। এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবশ্যই আমাদের কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
🟢 কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না।

comment url